সংস্কার ও বিচার ছাড়া কোনো নির্বাচন দেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, মুখ্য সমন্বয়ক নাছির উদ্দিন পাটোয়ারীসহ আরও অনেকে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “বর্তমানে আমাদের জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রধান দাবি হলো বিচার ও সংস্কার এবং গণ পরিষদ নির্বাচন। আমরা মনে করি, এই পথেই গণতন্ত্রের পথে জাতির উত্তরণ সম্ভব। বিচার ও সংস্কার ছাড়া যদি নির্বাচন দেওয়া হয় এবং কেবল একটি দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নির্বাচন চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “এই দেশের মানুষ রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের জন্য। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। বারবার এই অর্জন বেহাত হয়েছে, জনগণকে রক্ত দিতে হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন আর কাউকে রক্ত দিতে না হয়, সেটাই আজকের দিনের প্রত্যাশা।”
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা গণতন্ত্র, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের জন্য যুগ যুগ ধরে লড়াই করেছি এবং ২০২৪ সালেও আমাদের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন করতে হয়েছে। আমরা মনে করি, ১৯৭১ এবং ২০২৪ আলাদা কিছু নয়। বরং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ১৯৭১-এর চেতনা পুনর্জীবিত হয়েছে। ৫৪ বছরেও এই চেতনা বাস্তবায়িত হয়নি বলেই ফ্যাসিবাদ দীর্ঘদিন এ দেশে শাসন করেছে। তাই ১৯৭১ সালে যে সাম্যের কথা বলা হয়েছিল, ২০২৪-এ আমরা সেই বৈষম্যহীন সমাজের কথাই বলছি। যারা এই দুই আন্দোলনকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন, তাদের উদ্দেশ্য অসৎ।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা দেখছি, পুরনো সংবিধান আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা চলছে। আমরা মনে করি, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতার লড়াই—সবই একটি মানবিক, মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র গঠনের জন্য ছিল। গণঅভ্যুত্থানের পর সেই সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা কোনোভাবেই নষ্ট করা যাবে না। একদিকে বিচার ও সংস্কার ছাড়া নির্বাচন চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে ফ্যাসিস্ট শক্তিকে পুনর্বাসনের জন্য নানা পাঁয়তারা চলছে। এসব প্রতিহত করতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমরা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই।”
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো বিভক্তি তৈরি হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, “জাতীয় ঐক্যের যে ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, আমরা এখনো সেই অবস্থানে আছি। যদিও বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক এজেন্ডা আলাদা হতে পারে, তবে আমরা যদি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে চাই এবং দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে চাই, তাহলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতেই হবে। জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হয়েছে বলে আমরা মনে করি না। তবে যদি কেউ জনগণের সংস্কার ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা থেকে সরে যায়, তাহলে তাদের সঙ্গে ঐক্য রাখা সম্ভব হবে না।”
