বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩, ২০২৫
প্রচ্ছদ্ধআন্তর্জাতিকমার্কিন কমিশন ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর ওপর নিষেধাজ্ঞার পরামর্শ দিয়েছে

মার্কিন কমিশন ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর ওপর নিষেধাজ্ঞার পরামর্শ দিয়েছে

spot_img
spot_img

ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা মার্কিন কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ) জানিয়েছে যে ভারতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি আচরণ ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। এছাড়াও, একজন শিখ নেতার হত্যার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ভারতের গোপনীয় সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র)-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির পরামর্শ দিয়েছে তারা।

মঙ্গলবার প্রকাশিত ২০২৫ সালের বার্ষিক রিপোর্টে এই সুপারিশ এসেছে বলে রয়টার্স সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে।

এই রিপোর্টে ২০২৪ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় স্বাধীনতার অবস্থা বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি ভালো করার জন্য বিভিন্ন দেশের ক্ষেত্রে কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের বিষয়ে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশটিতে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিবেশের অবনতি ঘটেছে। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে থাকা অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে বিতর্ক সৃষ্টির জন্য সহিংসতা নিয়ে ভুয়া খবর ছড়ানো হচ্ছে বলেও রিপোর্টে বলা হয়েছে।

এতে আরও জানানো হয়েছে যে, হিন্দুদের হত্যার যে খবরগুলো এসেছে, সেগুলো ধর্মীয় কারণে নয়, বরং রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের ফল।

ভারতের ক্ষেত্রে রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে দেশটিতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং তাদের প্রতি অবিচার বেড়েছে, যার ফলে ধর্মীয় স্বাধীনতার অবস্থা ক্রমশ নিম্নমুখী হয়েছে।

গত বছরের নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তার দল ভারতীয় জনতা পার্টি ‘মুসলিম ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক মন্তব্য এবং বিভ্রান্তিকর’ তথ্য ছড়িয়েছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।

গুরুতর ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে ভারতকে ‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করার পরামর্শ দিয়েছে ইউএসসিআইআরএফ। এছাড়াও, প্রাক্তন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বিকাশ যাদব এবং সংস্থা হিসেবে ‘র’-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া, ভারতের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি পুনর্বিবেচনার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে এই রিপোর্টে।

তবে, এশিয়ায় চীনের বাড়তে থাকা প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কারণে ওয়াশিংটন ভারতের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মিয়ানমার থেকে উদ্বাস্তু হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সাহায্যের জন্য মার্কিন সরকারকে বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছে এই কমিশন।

আরো পড়ুন
- বিজ্ঞাপন -

সর্বাধিক পাঠিত