হকি বিশ্বকাপের জন্য তিন সপ্তাহ বন্ধ থাকবে রাউরকেল্লার ২২টি দূষণকারী স্পঞ্জ আয়রন প্ল্যান্ট

আগামী বছরের ১৩ জানুয়ারী থেকে ওড়িশায় পুরুষদের হকি বিশ্বকাপের আগে, রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড রাউরকেল্লার বিরসা মুন্ডা হকি স্টেডিয়ামের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ২২টি স্পঞ্জ আয়রন প্ল্যান্টকে তাদের ইউনিটগুলি ৫ থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে বন্ধ রাখতে বলেছে। কালুঙ্গা এবং কুয়ানরামুন্ডা ক্লাস্টারে স্পঞ্জ আয়রন প্ল্যান্টগুলিতে জারি করা একটি পরামর্শে, রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের সদস্য সচিব হকি বিশ্বকাপের সময় পরিষ্কার বায়ু রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৫ জানুয়ারী থেকে ২৮ জানুয়ারী এর মধ্যে তাদের প্ল্যান্টগুলি বন্ধ করতে বলেছেন। যদিও প্রাথমিক পরামর্শটি ১ থেকে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ছিল। তবে ইউনিটগুলির মালিকদের প্রতিবাদের কারণে এটি পরিবর্তন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন… বেঞ্জেমার জোড়া গোলে রিয়ালের জয়, লা লিগায় ফিরল আর্জেন্তিনা-নেদারল্যান্ডস ম্যাচের স্মৃতি

এসপিসিবি-র সচিব কে মুরুগেসান বলেছেন, ‘স্পঞ্জ আয়রন প্ল্যান্ট মানে স্পঞ্জ আয়রন উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত ইউনিট, যেমন, ডিআরআই ভাটা, কুলার ডিসচার্জ ইউনিট, ক্রাশার এবং ডিআরআই ভাটির স্ক্রিন এবং পণ্য পৃথকীকরণ ইউনিট এই সময়ের মধ্যে বন্ধ থাকবে।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘অন্যান্য ইউনিট যেমন, পাওয়ার প্ল্যান্ট, ইস্পাত তৈরির ইউনিট, রোলিং মিল, পেলেট প্ল্যান্ট এবং ওয়েট বেনিফিসিয়েশন প্ল্যান্টগুলিকে বোর্ড দ্বারা নির্ধারিত নিয়মগুলি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।’

রৌরকেল্লার বিরসা মুন্ডা হকি স্টেডিয়াম যেখানে হকি বিশ্বকাপের ৪৪টি ম্যাচের মধ্যে ২০টি অনুষ্ঠিত হবে, এটি ২০ হাজার আসনের ক্ষমতা সহ দেশের বৃহত্তম হকি স্টেডিয়াম। এটি প্রায় ২৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে। ভারত ছাড়াও, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, বেলজিয়াম, দক্ষিণ কোরিয়া, ওয়েলস, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, মালয়েশিয়া এবং চিলির মতো দেশের খেলোয়াড়রা ভুবনেশ্বর এবং রাউরকেল্লার মধ্যে গ্রুপ ম্যাচের পাশাপাশি কোয়াটার ফাইনাল এবং সেমিফাইনালের জন্য লড়াই করবে। রাজ্য সরকার বিরসা মুন্ডা হকি স্টেডিয়ামেই খেলোয়াড়দের থাকার ব্যবস্থা করেছে।

আরও পড়ুন… রীতি মেনে লা লিগার ম্যাচের মাঝেই শুরু খেলনা ও পুতুলের বৃষ্টি- দেখুন সেই ভিডিয়ো

Read also  জটিল সমীকরণে গ্রুপ ‘সি’ ও ‘ডি’ অঙ্ক, পোল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয় চাই মেসিদের, গ্রুপ টপ করাই টার্গেট ফ্রান্সের – News18 Bangla

ব্লাস্ট ফার্নেস রুটের তুলনায় কম বিনিয়োগের প্রয়োজনের কারণে স্পঞ্জ আয়রন ভারতে লোহা উত্তোলনের জনপ্রিয় পদ্ধতি হওয়ায়, কুয়ানরামুন্ডা এবং কালুঙ্গা ক্লাস্টারে প্রচুর সংখ্যক স্পঞ্জ আয়রন প্ল্যান্ট রয়েছে। স্পঞ্জ আয়রন তৈরির প্রক্রিয়া হল বায়ু দূষণকারী নানা গ্যাস নির্গত হয়ে থাকে। এখানে ঘূর্ণমান ভাটা থেকে গ্যাস নির্গমনের ফলে কণা দূষক এবং সালফার ডাই অক্সাইড, নাইট্রাস ডাই অক্সাইড, ওজোন, কার্বন মনোক্সাইড এবং ডাইঅক্সিনগুলির মতো গ্যাসীয় দূষণকারী গ্যাস নির্গত হয়ে থাকে। এরফলে কাশি, শ্বাসকষ্ট, ব্রঙ্কাইটিস এবং হাঁপানির মতো দীর্ঘস্থায়ী লক্ষণকারি অসুখ হতে পারে।

SPCB-এর সদস্য সচিব মুরুগেসান বলেছেন যে স্পঞ্জ আয়রন প্ল্যান্টগুলিকে বন্ধ করতে বলা হয়েছিল। এর কারণ বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ইলেক্ট্রোস্ট্যাটিক প্রিসিপিটেটরগুলি যেভাবে প্ল্যান্ট গুলি থেকে দূষক বায়ুমণ্ডলে ছাড়ে তাতে খুবই সমস্যা হতে পারে। শুধু আধ ঘন্টার জন্য এটা বন্ধ করে লাভ হবে না। মুরুগেসান বলেছেন, ‘মাত্র আধা ঘন্টার জন্য প্রিসিপিটেটরগুলি বন্ধ রাখলে বিশ্বকাপের সময় বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে কণা পৌঁছে যাবে। যেহেতু এটি শীতের সময় যেহেতু এসপিএমের মাত্রা সাধারণত বেশি থাকে, তাই আমরা বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছি। এছাড়াও যারা শহরে নির্মাণ ব্যবসা করছেন তাদের আপাতত তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে বলা হয়েছে।’

ওড়িশায় পরিচালিত ১১৫টি স্পঞ্জ আয়রন প্ল্যান্টের মধ্যে, ৪৬টি সুন্দরগড় জেলায় রয়েছে যা এর কৌশলগত অবস্থান, রেল ও হাইওয়ের মতো উপলব্ধ অবকাঠামো, বিদ্যমান ইস্পাত ব্যবসার নেটওয়ার্ক এবং কয়লা ও লোহা আকরিকের উৎসের কারণে একটি প্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। সিআইটিইউ-এর ওড়িশা সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলি বলেছেন যে ওড়িশা রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (ওএসপিসিবি) সদস্য সচিবের ২২টি স্পঞ্জ আয়রন শিল্প বন্ধ করার আদেশ প্রমাণ করে যে তারা বায়ুমণ্ডলকে দূষিত করছে। আলি বলেন, ‘এই স্পঞ্জ আয়রন শিল্পগুলি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য ব্যাক-ফিল্টার এবং ইলেক্ট্রোস্ট্যাটিক প্রিসিপিটেটর সহ দূষণ নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম ব্যবহার করছে না। শিল্পগুলিও ধুলো-প্রবণ এলাকায় জল ছিটাচ্ছে না। সুন্দরগড়ের মানুষের দূষণমুক্ত পরিবেশের অধিকার রয়েছে এবং একই রকম হকি বিশ্বকাপের পরে দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কঠোরভাবে প্রয়োগ করে পরিবেশের বায়ুর গুণমান বজায় রাখা উচিত।’

Read also  FIFA World Cup 2022 Final: 'ও ফুটবলের ব্যাপারে বেশি কিছু জানে না', দুই 'এম'এর মধ্যে ধুন্ধুমার!

Source link