Preparations for Moon and Mars missions: চাঁদ কিংবা মঙ্গলগ্রহে যেতে চান? এই দ্বীপে চলছে প্রশিক্ষণ

পৃথিবীর বুকেই চাঁদ বা মঙ্গলগ্রহের উপরিভাগের মতো পরিবেশ পেতে হলে স্পেনের একটি দ্বীপে যেতে হবে৷ চাঁদে আবার মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি হিসেবে মহাকাশচারীরা সেখানে অনুশীলনের সুযোগ পান৷ স্পেনের লান্সারোটে দ্বীপে আমেরিকা ও ইউরোপের এক যৌথ চন্দ্র অভিযানের জন্য প্রশিক্ষণ চলছে৷ এই দ্বীপের সঙ্গে চাঁদ ও মঙ্গলগ্রহের উপরিভাগের অনেক মিল রয়েছে৷ ভবিষ্যতে মঙ্গলযাত্রার পরিকল্পনাও রয়েছে৷ জার্মান মহাকাশচারী আলেক্সান্ডার গেয়ার্স্টও সেই কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন৷ সেই সব মিশনে তার অংশগ্রহণের সম্ভাবনা উজ্জ্বল৷

প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট পাথরের সন্ধানও গুরুত্বপূর্ণ কাজ৷ এমন পাথর, যা থেকে অনেক তথ্য পাওয়া সম্ভব৷ তবে আপাতত চাঁদ নিয়েই ব্যস্ততা চলছে৷ সম্ভবত তিন থেকে চার বছরের মধ্যে সেই অভিযান শুরু হবে৷ মহাকাশচারীদের সব সময়ে পৃথিবীর বিজ্ঞানীদের সঙ্গে বেতার যোগাযোগ চালু রাখতে হবে৷ বিজ্ঞানীরা তাদের আরও দক্ষতার সঙ্গে নির্দিষ্ট পাথর খুঁজতে সাহায্য করবেন৷ ৫০ বছর আগে অ্যাপোলো মিশনের সময় সেটা সম্ভব ছিল না৷ চাঁদে পৌঁছনোর পর তাঁদের যা সন্ধান করতে হবে, লান্সারটের মাটিতেই বার বার তা অনুশীলন করা হচ্ছে৷ তারপর বিজ্ঞানীদের সঙ্গে যোগাযোগের পালা৷ চাঁদ থেকে পৃথিবীর বুকে বার্তা যাবে৷ প্রশ্ন উঠবে, এই জায়গাটি কি পাথরের নমুনা সংগ্রহের জন্য ভালো?

অনুশীলনের অংশ হিসেবে আলেক্সান্ডার গেয়ার্স্ট অন্য একটি গহ্বরের দিকে এগিয়ে গেলেন৷ প্রশিক্ষক টিমের সঙ্গে বেতার যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটছে৷ ফলে কোনও তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না৷ প্রায় এক ঘণ্টা বিলম্বের পর আলেক্সান্ডার গন্তব্যে পৌঁছে বললেন, ‘পৃথিবীর বুকে সর্বত্র স্যাটেলাইট রিসিভার রয়েছে৷ আমরা সব জায়গায় যোগাযোগের সুবিধায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি৷ চাঁদের বুকে সর্বত্র সেই সুযোগ নেই৷ আমাদের নিজস্ব নেভিগেশন ও যোগাযোগ প্রণালী সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে৷ সেগুলি পরীক্ষা করে দেখতে হবে৷ প্রশিক্ষণের সময়ে গোটা প্রণালী পরীক্ষা করতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়৷’

আলেক্সান্ডার গেয়ার্স্ট সব মিলিয়ে প্রায় এক বছর মহাকাশে কাটিয়েছেন৷ আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন আইএসএস-এর কমান্ডার হিসেবে শেষবার তিনি মহাকাশে গিয়েছিলেন৷ সেখানে তিনি একশোরও বেশি পরীক্ষা চালিয়েছেন৷ এবার আরও বড় দায়িত্ব পেতে পারেন তিনি৷ চাঁদের বুকে স্টেশন গড়ে তোলার কাজ শুরু করতে পারেন গেয়ার্স্ট৷ তিনি মনে করেন, ‘অ্যান্টার্কটিকার মতো চাঁদের বুকেও গবেষণা স্টেশন গড়ে তোলা একটা চ্যালেঞ্জ৷ কারণ আমরা বেশি কিছু সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পারবো না৷ আমাদের টেকসই পদ্ধতিতে জীবনযাপন করা শিখতে হবে৷ চাঁদের নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করতে হবে৷ হয়তো পানির মধ্যে বিভাজন ঘটিয়ে নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য বাতাস ও জ্বালানি তৈরি করতে হবে৷ অনেক কাজ আছে, তবে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি৷’ লান্সারোটে দ্বীপে ছয় দিনের প্রশিক্ষণ মোটেই সহজ ছিল না বলে আলেক্সান্ডার গেয়ার্স্ট মনে করেন৷

Read also  Sudden cardiac death: সিনেমা দেখতে দেখতে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু! কেন এমন হয়? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

Source link