Kenya Tour Plan From Kolkata: জঙ্গলের বুক চিরে আফ্রিকান সাফারি, সঙ্গে মাসাইমারা – কেনিয়া ট্যুর কীভাবে করবেন?

ড. প্রিয়দর্শী মজুমদার

ভূমিকা আর আমার কথা: দেশ-বিদেশ বেড়ানো আমার নেশা| বাড়তি কিছু টাকা পয়সা ম্যানেজ করতে পারলেই পরিকল্পনা শুরু করি| পৃথিবীর প্রতিটা মহাদেশকেই ছুঁয়ে দেখা আমার লক্ষ্য| মধ্য ইউরোপের বেশ কিছু দেশ, পূর্ব ও পশ্চিম এশিয়ার কিছু কিছু দেশে ঘুরে বেশ কিছু অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করার পর আমার আফ্রিকা অভিযানের শুরু|

২০১৯ সালে উত্তর আফ্রিকার মিশরে একটি অসাধারণ ট্যুরের পর এবার আমার গন্তব্য ছিল মধ্য-পূর্ব আফ্রিকার কেনিয়া| কয়েকটি দিক মাথায় রেখেই আমার এই ট্যুরের পরিকল্পনা| একদিকে, যেমন এখানে খোলামেলা গাড়িতে আফ্রিকান সাফারির অসাধারণ সুযোগ রয়েছে, তেমনই ক্যাম্পে রাত্রিবাস, আবার ঠিক ভারতের মতোই ডান-হাতি গাড়ি চালনার সুবিধা থাকায় নিজে গাড়ি চালানো বা সেলফ-ড্রাইভিংয়ের আনন্দ উপভোগ করার লোভনীয় সুযোগও ফেলে দেওয়ার নয়|

ড্রাইভিং আমার কাছে এক চ্যালেঞ্জিং প্যাশন| জটিল পথে স্বচ্ছন্দে বৃহৎ আকারের গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যাওয়া আমার অনেকরকম পছন্দের কাজের মধ্যে অন্যতমও বটে| তাই সঠিক সময়-সুযোগ মতোই নিজেই ছোটাছুটি করে প্রয়োজনীয় সব জোগাড়যন্ত্র করে ফেললাম (পরে আমি এই সংক্রান্ত তালিকা দিয়েছি)| এটি আমার একারই ট্যুর ছিল তবে একদম শেষ মুহূর্তে আমার ভগ্নিপতি সঞ্জীবদা (সঞ্জীব মিত্র) আমার যাত্রাসঙ্গী হয়ে ওঠেন|

কলকাতা থেকে উড়ানে দিল্লি ও আমদাবাদ ঘুরে পৌঁছে গেলাম নাইরোবির জোমো কেনিয়াট্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে| এখন থেকে স্থানীয় সিমকার্ড সংগ্রহ করে ক্যাব বুক করে নাইরোবিতে আমাদের বুক করা হোটেলে চেক-ইন করলাম দু’জনে| পরদিন থেকেই আমাদের মূল ট্যুরের শুরু|

হেলস গেট পার্কে লেখক এবং তাঁর সঙ্গী।

সেলফ-ড্রিভেন গাড়িতে লেক নাকুরু ন্যাশনাল পার্ক এবং লেক নাইভাশা যাওয়ার কথা| সকালে নির্দিষ্ট সময়ে চলে এলো টয়োটা রাভ ৪ অটোমেটিক সেডান গাড়ি| চালিয়ে নিয়ে এলো আমার আফ্রিকান ট্যুর এজেন্ট তথা আমার বন্ধু সাইমন| ব্রেকফাস্টের শেষে আমি ও সঞ্জীবদা চটজলদি আমাদের মালপত্র নিয়ে হোটেল থেকে চেকআউট করে বেরিয়ে পড়লাম ইস্ট-আফ্রিকান সেলফ ড্রাইভিংয়ে|

অসাধারণ সুন্দর পিচ ঢালা রাস্তা দিয়ে এগিয়ে চললাম আমরা| অটোমেটিক গাড়ি চালাতে শুরুর কয়েক কিলোমিটার একটু অস্বস্তি হলেও ধীরে-ধীরে সহজেই মানিয়ে নিলাম আর গাড়ির গতি বাড়াতে লাগলাম| গিয়ার-যুক্ত গাড়ির তুলনায় অনেকাংশেই সহজ এই গাড়ি চালানো| পথে বেশ কিছু ছোটোখাটো পাহাড়ি টিলা, ধূসর প্রান্তর এবং হালকা জঙ্গল পার হতে হল| পথে কয়েকবার গাড়ি দাঁড় করিয়ে গাড়িতে জ্বালানি ভরে নেওয়া, হালকা কিছু খেয়ে নেওয়া, উপত্যকার কোলে গুটিকয়েক দোকান নিয়ে তৈরি অনু-বাজারে কেনিয়ার শিল্প-সম্ভার নিয়ে বসে থাকা দোকানিদের সঙ্গে কথাবার্তা বলা ও সামান্য কেনাকাটা সেরে নিয়েছি যথারীতি|

এখন থেকে সমস্ত খুঁটিনাটির বিস্তৃত বিবরণ না দিয়ে শুধু মূল ঘটনাগুলোই উল্লেখ করব| কারণ এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বিবরণ হিসাবেই তুলে না ধরে ইচ্ছুক ভ্রমণকারীদের জন্যও একটি টিপস হিসেবে রাখতে চাই, তাই প্রবন্ধটির দৈর্ঘ্য অসহনীয় হয়ে পড়া কাম্য নয় মোটেই|

Read also  Pancreas cancer symptoms: অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার গোড়ায় প্রায় বোঝাই যায় না! এই সমস্যাগুলি এড়িয়ে যাবেন না

সারাদিনটা লেক নাকুরু আর নাইভাশার ফ্লেমিংগো, জলহস্তি, জেব্রা, জিরাফ, বিভিন্ন জাতের হরিণ, বুনো শুয়োর, গন্ডার পরিবার, বুনো মোষদের সঙ্গে কাটিয়ে, জীবজন্তুর মাঝখান দিয়ে নিজে গাড়ি চালানোর তুমুল আনন্দ নিয়ে ও লেকে বোটিং করে হোটেলে ফেরার পালা|

পরেরদিন হেলস গেট ন্যাশনাল পার্কে সাইক্লিংয়ের অসাধারণ অভিজ্ঞতা| পাহাড়ের নিচে বিস্তীর্ণ ঘাসজমি, তাতে চরছে জেব্রা আর বুনো মোষ| ঘাসজমি চিরে সুদূরে চলে গিয়েছে পাথুরে উঁচু-নিচু রাস্তা| সেই রাস্তাতেই লাফাতে-লাফাতে চলছে আমার সাইকেল| পাশে আরও একটা সাইকেলে একজন লোকাল গাইড চলেছেন আমার সঙ্গে| সঞ্জীবদা পিছনে আসছে গাড়িতে| প্রাণীগুলো মাঝে মাঝে রাস্তার উপর দিয়ে ঘাসজমি পারাপার করছে বলে ব্রেক কষে দাঁড়িয়েও পড়তে হচ্ছে|

হেলস গেট পার্কের ট্যুর শেষে আমার প্রিয় সেলফ-ড্রিভেন টয়োটা রাভ ৪ গাড়িটি বিদায় নিল (যদিও তাকে আবার পরে পেয়েছি এবং চালিয়েওছি, সেকথা যথাসময় বলব)। তারইমধ্যে আমরা মধ্যাহ্নভোজের শেষে উঠে পড়লাম মাসাইমারার সাফারি গাড়িতে (টয়োটা ল্যান্ড ক্রুইজার)| এই গাড়িগুলো বিশেষভাবে তৈরি| এগুলো সবই ৪ X ৪ ড্রাইভ গাড়ি, নইলে উঁচু-নিচু ঘাস-জমি ও জলকাদার উপর দিয়ে চালানো সম্ভব নয়, আর প্রকৃতি ও জীবজন্তু দেখার জন্য গাড়ির ছাদ ইচ্ছে মতো খুলে ফেলা যায়| পরবর্তী সাড়ে তিনদিন এই গাড়িতেই এককথায় আমরা মাসাইমারা চষে বেড়িয়েছি বলা চলে|

ঘুমন্ত সিংহ, শিকারী সিংহ, পায়চারি করা সিংহ, হরিণ মেরে সেই হরিণ নিয়ে গাছের ডালে চড়া লেপার্ড, ঘাসজমিতে শিকার ধরতে লুকিয়ে-লুকিয়ে এগিয়ে চলা লেপার্ড, মিষ্টি মুখের চিতা, গরু-ছাগলের মতো ওয়াইল্ড বিস্ট, জেব্রা, বাচ্ছা-সহ জিরাফ, বিভিন্ন জাতের হরিণ, অস্ট্রিচ, মারা নদীর তীরে রোদ পোহানো হিপোর দঙ্গল, আফ্রিকান বুশ এলিফ্যান্ট দেখা হোক বা বন্যপ্রাণীর মাইগ্রেশন দেখার জন্য কয়েক ঘণ্টা ধৈর্য ধরে প্রতীক্ষা বা গাড়ি করে একদম তানজানিয়ার বর্ডার পর্যন্ত চলে যাওয়া – কিছুই বাকি থাকেনি|

রাতে ডাইনিং হলে ডিনার সেরে ঘোর অন্ধকারে বেশ কিছুটা হেঁটে তাঁবুতে ফিরতে হতো, ভোরবেলা ব্রেকফাস্টে যাওয়ায় সময়ও একই রকম অন্ধকার, রাতে তাঁবুর দরজার চেন টেনে ভিতরে একা থাকার রোমাঞ্চকর আনন্দ, মাসাইদের গ্রামে মাসাইদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কাটানো, তাঁদের সঙ্গে নাচে অংশ নেওয়া, মাসাই মহিলাদের নাচ, তাঁদের শিল্প সামগ্রীর বাজার ঘুরে দেখা, তাঁদের বিশেষ ধাঁচের বাড়ি, গোয়ালঘর ইত্যাদি দেখা ও ইন্টারভিউ নেওয়া এসব ভোলার নয়|

Read also  Aedes albopictus: এই মশার এক কামড়েই কোমায় গেলেন ব্যক্তি! বাড়ছে এর উৎপাত, কোন ৫ রোগ থেকে সাবধান

মাসাইমারার রাইনো ক্যাম্পের ডাইনিং হলে আমার কাপের ব্যালেন্সিং বা ফিরে আসার পথে নাইরোবি হোটেলে আমার করা উঁচু পাব চেয়ারের ব্যালেন্সিং, সাইমন-সহ সব কেনিয়ান মানুষদের আতিথেয়তা এবং মাসাইমারা থেকে নাইরোবি ফেরার পথে গাড়িতে আমার চটজলদি লেখা ১০-৯-১০-৯ (ABAB-CDCD-EFEF) দোলায়মান ছন্দের কবিতা ‘মাসাইমারা’-র কথাও কি ভোলা যায়?

<p>মাসাইমারায় জঙ্গল সাফারি।</p>

মাসাইমারায় জঙ্গল সাফারি।

ঘুরে গেলাম আশ মিটিয়ে,

মাসাইমারার জঙ্গলে|

এ ঘোরা নয়, ঢাক পিটিয়ে,

যাইনি মোটেই দঙ্গলে|

ফেলেছি চষে দু’জন মোরা,

দুটচাকা ও চার চাকায়|

মাথায় নিয়ে গরম পোড়া,

ধুধু ঘাসের ঐ ফাঁকায়|

শেষ হয়েছে মাসাইমারা,

এবার চলি নাইরোবি|

গণিত-ছন্দে পাগলপারা,

কলম হাতে এই কবি|

রাতটা নাইরোবিতে কাটিয়ে পরদিন আবার নিজে রাভ ৪-এর স্টিয়ারিং ধরে বেড়িয়ে পড়লাম জোমো কেনিয়াট্টা বিমানবন্দরের উদ্দেশে| হাতে বেশ কিছুটা সময় নিয়ে বেরিয়েছিলাম, তাই পথে নাইরোবি শহরের কয়েকটি দ্রষ্টব্য জায়গা চটপট দেখে নিলাম| অবশেষে এয়ারপোর্ট পৌঁছে ট্র্যাভেল এজেন্টের হাতে আমার প্রিয় গাড়িটি হাতবদল করে বাড়ি ফেরার উড়ান ধরলাম|

এখানেই আমার ট্যুর শেষ| এবার আপনাদের জন্য রইল কিছু টিপস

কেনিয়ার অবস্থান: ভারত মহাসাগরের কোল ঘেঁষে পূর্ব আফ্রিকার এক গুরুত্বপূর্ণ দেশ হল কেনিয়া|

বছরের কোন সময়টা যাওয়া উচিত: জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর এর সময়টাই কেনিয়া ভ্রমণের পক্ষে উপযুক্ত|

কী কী সঙ্গে নেবেন?

এই বেলা একটু দেখেনি, কী কী আপনি সঙ্গে রাখবেন| অবশ্যই আপনার পাসপোর্ট (নতুন এবং পুরোনো), ইলেকট্রনিক ভিসার কয়েক কপি প্রিন্ট-আউট, ইয়েলো ফিভার ভ্যাকসিনেশন কার্ড (সঙ্গে পোলিও ভ্যাকসিনও নিয়ে নেওয়া উচিত), নিজে গাড়ি চালিয়ে আন্তর্জাতিক ড্রাইভিংয়ের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে চাইলে অবশ্যই সঙ্গে রাখুন আপনার ভারতীয় ড্রাইভিং লাইসেন্স ও আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট, কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন সার্টিফিকেট এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের প্রয়োজন অনুযায়ী ভারত ও কেনিয়ার সরকারের ভ্যাকসিন বিধি মেনে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল/প্রিন্টেড ছাড়পত্র, আপনার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উড়ান সমূহের ডিজিটাল/ প্রিন্টেড টিকিটগুলি, পাসপোর্ট ছাড়াও একটি অতিরিক্ত পরিচয়পত্র (আপনার অফিস সংক্রান্ত হলে ভালো হয়) সঙ্গে রাখুন।

উড়ান ধরার আগেই ওয়েব চেকিং করিয়ে নিলে আপনারই সুবিধা। জরুরি অবস্থায় অনেক সময় এটি বাধ্যতামূলকও হয়ে দাঁড়াতে পারে (সেই সংক্রান্ত ডিজিটাল/ প্রিন্টেড ডকুমেন্ট এয়ারপোর্টে ঢোকার আগেই প্রস্তুত করে রাখুন), আপনি নিয়মিত যেসব ওষুধপত্র নেন এবং তার বাইরেও আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য যা যা জরুরি মনে করবেন, সেই জাতীয় সব ওষুধপত্র একজন রেজিস্টার্ড মেডিকেল প্র্যাক্টিশনারকে দিয়ে প্রেসক্রিপশন করিয়ে আপনার সঙ্গে রাখুন।

যে যে হোটেল বুক করেছেন, সেগুলির ভাউচার; ভ্রমণসংস্থাকে যে অগ্রিম প্রদান করেছেন সেই সংক্রান্ত ভাউচার; সম্পূর্ণ ভ্রমণের ইটেনারিও সঙ্গে নিতে ভুলবেন না| সমস্ত ডকুমেন্টেরই একাধিক কপি সংরক্ষণ করা বাঞ্চনীয়| ভ্রমণ বিমা বা ট্র্যাভেল ইন্সুরেন্স কিন্তু অবশ্যই করবেন (এক্ষেত্রে খুব অল্প প্রিমিয়াম দিয়ে ভ্রমণের দিনগুলির জন্য বেশ বড় মাপের কভারেজ পাওয়া যায়)|

Read also  Eco-friendly wedding: পরিবেশের ক্ষতি না করেই বিয়ের অনুষ্ঠান করতে চান? কী কী করবেন

এবার আসি মুদ্রার কথায় – ইন্টারন্যাশনাল ট্র্যাভেল কার্ড অবশ্যই সঙ্গে রাখতে পারেন, তবে অনেক ক্ষেত্রেই নগদে লেনদেন করতে হতে পারে (অথবা ইলেকট্রনিক ম্যালফাংশন হওয়াও আশ্চর্য কিছু নয়)। তাই নগদ ইউ.এস. ডলার অবশ্যই আপনাকে সঙ্গে রাখতেই হবে| কোনও ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে গেলে আপনি খরচের হিসাব আগেই মোটামুটি পেয়ে যাচ্ছেন| এর বাইরেও কিছু ভারতীয় মুদ্রাও সঙ্গে রাখবেন। ভারত থেকে বেরোনো বা ভারতে ফেরার পর চটজলদি কিছু খরচ মেটানোর জন্য কাজে লেগে যাবে|

কেনিয়া পৌঁছে স্থানীয় সিমকার্ড সংগ্রহ করার জন্য আপনার পাসপোর্ট সাইজ ছবি সঙ্গে রাখতে ভুলবেন না| জরুরি জিনিসের মধ্যে আর বাকি পরে রইল আপনার ইলেকট্রনিক গ্যাজেটস, তাদের চার্জার, আন্তর্জাতিক প্লাগ-সকেট, আপনার পোশাক-আশাক ইত্যাদি|

কী কী দেখবেন?

প্রত্যেক ট্যুর অপারেটরের নিজস্ব কিছু বেসিক ট্যুর থাকেই| সঙ্গে আপনার সময়, শখ ও পকেট অনুযায়ী কিছু অতিরিক্ত ট্যুর আপনি অ্যাড অন করে নিতেই পারেন|

ঝুঁকি কতটা আর আনন্দ কতটা?

যে কোনও ট্যুরেই কিছু ঝুঁকি থাকবেই| আর সেই ট্যুর যদি হয় আন্তর্জাতিক এবং আফ্রিকা মহাদেশের পূর্ব-মধ্য অংশে, সেক্ষেত্রে তো ঝুঁকি কিছুটা বেশি থাকবেই। বন্য প্রাণী সংক্রান্ত ঝুঁকিটা যথেষ্টই কম, অতি দুঃসাহসী না হলে এক্ষেত্রে তেমন ঝুঁকি নেই, জীবজন্তুরা কোনও সাফারির গাড়িতে আক্রমণ করছে, এমন নজির সম্ভবত নেই।

তবে সাপ বা পীতজ্বর (ইয়েলো ফিভার) সংক্রান্ত ঝুঁকি থেকেই যায়। ইয়েলো ফিভারের ভ্যাকসিন থেকে এলার্জি হওয়াও আশ্চর্য কিছু নয়| তাই এই ভ্যাকসিনটি নেওয়ার আগে ডাক্তারের সঙ্গে আলোচনা করে নিতে পারেন| তবে প্রকৃতির ডাকে যাঁদের ঘন-ঘন সাড়া দিতে হয় অথবা হজম সংক্রান্ত সমস্যা বা পেটের সমস্যা আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই জাতীয় অভিযান খুবই সমস্যাজনক| ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ি থেকে নামার সুযোগ থাকে না|

এবার আসি আনন্দের কথায়| দেখুন আনন্দটা মানুষের নিজস্ব অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ| কেউ বেড়াতে গিয়েও আনন্দ পান না আবার কেউ বাড়ির সাধারণ কাজেও আনন্দ পান| তবে যাঁরা একটু বিপজ্জনক অভিযান পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য মাসাইমারার ক্যাম্পে থাকা, সাফারি, ওয়াইল্ডবিস্ট মাইগ্রেশন এবং অবশ্যই জঙ্গলে সেলফ-ড্রাইভিং একটি অসাধারণ অভিজ্ঞতা|

—————————————————————————

ড. প্রিয়দর্শী মজুমদার ইলেকট্রনিক্সের অধ্যাপক এবং বিজ্ঞান গবেষক, ব্যালেন্সিং শিল্পী, গাণিতিক ছন্দের কবি, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক, আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারী ও বিজ্ঞান লেখক (গত বছরের অগস্টের মাঝামাঝি কেনিয়া বেড়িয়ে আসার সুবাদে এই লেখা)।

Source link